দৃশ্যপট লেখকের লেখার উপকরণ
দৈনন্দিন জীবনের ধরন ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে। রোজই আসছে বদল। পড়াশুনা বা শিক্ষার পরিবেশও বদলে যাচ্ছে। মানুষের বই পড়ার অভ্যাস কমছে। মোবাইলের প্রতি আসক্তি বাড়ছে। যন্ত্র নির্ভর হয়ে উঠছে জীবন। অন্যদিকে লেখালিখির জগৎও ভিন্ন রূপে। প্রতিদিনই দেশে-বিদেশে বা সমাজ জীবনে ছোট -বড় নানা ঘটনা ঘটে চলেছে। সেইগুলোই লেখকদের লেখার উপকরণ।
জন-কোলাহল, বাড়ির অভ্যন্তরে-বাইরের নানা ঘটনা বা আলোচনার বিষয়গুলি নিয়ে একজন লেখককে নতুন আইডিয়া দেয় । লেখকরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন বিষয়গুলি। তার ওপর বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং দিক খুঁজে পায়। বিষয়গুলো নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেই লেখকদের কলম চলে। একটি ঘটনা একজন লেখককে নতুন ধারণা দিতে পারে। সাধারণ মানুষের কাছে তা না হতেই পারে।
আবার লেখকরা শহরতলির জ্যাম-জটকে অন্যভাবে ভাবতে পারেন। অন্যের কাছে সেটা বিরক্তিকর হলেও তাঁর কাছে অন্য অর্থ হতে পারে। লেখার মাধ্যম হতে পারে। এ বিষয়ে মানুষের আচরণ, পরিবেশগত সমস্যা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রভৃতি প্রতিফলন হতে পারে। সব মিলিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি একজন লেখককে নতুন আইডিয়া দিতে পারে। লেখক সব সময় পরিস্থিতির গভীরে প্রবেশ করে থাকেন। ঘটনাকে বৃহত্তর আঙ্গিকে দেখতে চেষ্টা করেন। একটি দুর্ঘটনা সমাজে বৃহত্তর সমস্যাগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে পারে। লেখককূল বৃহত্তর সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক সমস্যার প্রতিফলন ঘটাতে কলম ধরেন।
সাধারণ বিষয়কে ভিন্নভাবে দেখার চোখ গুণী লেখকদের রয়েছে। একটি গাছের তলে কিছু মানুষ বসে আলোচনা করছে। ছবিটা খুবই সাধারণ হলেও লেখকের দৃষ্টিভঙ্গিতে অন্যরকম হয়। দৃশ্যপট তাঁর চোখে লেখার উপকরণ হয়ে ওঠে।

